ধর্মানুভূতির মাধ্যমে কি হচ্ছে বাংলাদেশে ?
By Shiplu Kumar Barmon
Writer & seeker
১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুইটি রাষ্ট্র হয় এবং সেই সময় প্রচুর হিন্দু জনগুষ্টিকে হত্যা করা হয় । পাকিস্তানের একটি অংশ পূর্ব পাকিস্তান ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয় । সেই সময়েও প্রচুর হিন্দু জনগুষ্টিকে পাকিস্তানী আর্মি ও স্বাধীনতা বিরোধী বাহিনীর দ্বারা হত্যা করা হয় । সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু পরিবর্তন হয়নি হিন্দু সংখ্যালঘুদের । তাদেরকে আগেও হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের জায়গা ও সম্পদ দখল করে দেশ তেগে বাধ্য করা হয়েছে । বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীতে এসেও তৌহিদী জনতা নামে মুসলিম জনগুষ্টি নরকীয় হত্যাকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে গণতান্ত্রিক সরকারের ছত্র ছায়ায় । হিন্দু সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘর, ধর্মীয় উপসনালয় ভাঙচুর করা হচ্ছে, জায়গা ও সম্পদ দখল করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে বা হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে,। তাদের যুবতী মা বোনদেরকে ধর্ষণের মতো জঘন্যতম হুমকিও দেওয়া হচ্ছে ।
তথাকথিত ইসলামের রক্ষাকারী মোল্লারা মানুষকে সুকৌশলে উস্কানি দেয় এবং ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে বিভ্রান্তিকর এবং সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হয় এইরকম অপরাধ প্রতিনিয়ত করেই চলছে । প্রতিটি ঘটনায় দেখাযায় মসজিদের মাইক ব্যবহার করে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, মসজিদের মোয়াজ্জিন এরা এই উস্কানীগুলি দিয়ে থাকে । এই তৌহিদী জনতা যারা এই উস্কানি মূলক কাজের সাথে জড়িত তাদের আজ পর্যন্ত কাউকে বিচারের আওতায় আনা হয়নি । আমার যতটুকু মনে পরে তৌহিদী জনতার কোনো রাজনৈতিক সংঘটন নেই তাহলে তারা এত শক্তি বা সাহস পায় কোথা থেকে।
গত ৩১শে আগস্টে ২০২০ টাঙ্গাইল জেলার ভুয়াপুরের গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ি গ্রামের শ্রাবণ হালদার বিরুদ্ধে মেসেঞ্জার চ্যাট গ্রুপে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করে এমন অভিযোগ এনে হাজার হাজার ধর্ম ব্যবসায়ী মৌলবাদী গোস্টি একত্রিত হয়ে স্থানীয় মসজিদের ইমামের নেত্রীত্বে সাম্প্রদায়িক তান্ডব চালায় শ্রাবন হালদারের বাড়িতে ।
গত ৮ জুলাই ২০২০ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পদুয়া, ফলহারিয়া জ্ঞান শ্মরণ বৌদ্ধ বিহার দখল করার উদ্দেশ্যে পুলিশ বাহিনীকে সাথে নিয়ে সাম্প্রদায়িক হামলা চালায় স্হানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী। এতে মদদ দেন স্থানীয় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ক্ষমতসীন দলের উক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রত্যক্ষ মদদে তারই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির নেতৃত্বে এলাকার চিন্হিত সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালানো হয় বলে খবরে প্রকাশ। সন্ত্রাসীরা এ সময় সর্বজন পুজ্য ভদন্ত শরণংকর থেরকে দেশ ত্যাগ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।এরপর বৌদ্ধ বিহার ও বুদ্ধ মুর্তি ভাঙচুর করেন।
বাংলাদেশের রংপুরে ১০ নভেম্বর ২০১৭ ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে কয়েক হাজার মানুষ রংপুরের সদর উপজেলার ঠাকুরপাড়ায় হিন্দু বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে নয়টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত ও পুলিশের সাত সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়।
ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ছবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা সাম্প্রদায়িক হামলায় রূপ নেয় ২০১৬ সালে । ফেইসবুকে রসরাজ ‘ইসলাম অবমাননা করে’পোস্ট দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ওই সাম্প্রদায়িক হামলায় কমপক্ষে ১৫টি মন্দির এবং শতাধিক ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে দুষ্কৃতকারীরা। এইরকম অসংখ্য উদাহরণ আরও দেওয়া যাবে ।